'স্বামী কেরোসিন ঢালে শাশুড়ি আগুন দেয়'
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন ১২/০৮/২০১১
বছর দেড়েক আগে জয়দেবপুরে হানিফের সঙ্গেবিয়ে হয়
জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টির (২২)। এখনদেড় মাসের
অন্তঃসত্ত্বা। অনাগত সন্তানের ভাবনায়তার সময় কাটার
কথা। কিন্তু সময় কাটছে শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার থেকে
বাঁচার আকুতির কথাচিন্তুা করে। মূলত যৌতুকের দাবি
পূরণ করতে নাপারায় গতকাল ভোরে স্বামীসহ শ্বশুর
বাড়ির লোকেরা তাকে হত্যা করতে গায়ে কেরোসিন
ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। কিন্তু এ যাত্রায় জানে বেঁচে
গেছেন তিনি। শতাংশ পুড়ে গেছে। অবস্থা
এখনো আশঙ্কাজনক। ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে
শরীরের ৪০ গতকাল দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের
বার্ন ইউনিটের ২১০ নম্বর ওয়ার্ডের ৪১নম্বর শয্যায় কথা
হয় বৃষ্টির সঙ্গে। সারা শরীরে ব্যান্ডেজ জড়ানো। যন্ত্রণায়
কাতরাচ্ছিলেন কিন্তু নড়াচড়াকরতে পাচ্ছিলেন না। তাকে
এ অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করতেই হাউমাউ করে কেঁদে
ফেলেন।কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামী মোহাম্মদ
হানিফ, শাশুড়ি আয়েশা ও ভাসুর মুজিবুররহমান তাকে
মারধর করে শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যার চেষ্টা
করে।কিন্তু প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করায় প্রাণে বেঁচে
গেছেন।বৃষ্টির অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী
ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য অত্যাচার শুরু
করে।
অত্যাচার সইতে না পেরে এর মধ্যে টাকাসহ সংসারের
প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই নিয়ে আসেন বাবার কাছ
থেকে।যারআর্থিক মূল্য কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকা
। কিন্তু সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন তার স্বামীর সঙ্গে
স্থানীয় এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি
জানাজানির পর তাদের দাম্পত্য কলহশুরু হয়।
পারিবারিকভাবে এ নিয়ে বসাবসিও হয়। এক পর্যায়ে
হানিফ বলেন, 'বিয়ের সময়তোমার (বৃষ্টিকে) বাবা যা
টাকা-পয়সা দিয়েছে তা খুব কম। ওই মেয়েকে
বিয়ে করলে অনেক টাকা পাব। তবে তোমার বাবার কাছ
থেকে দুই লাখ টাকা এনে দিলে ওই মেয়ের সঙ্গে
সম্পর্ক ছিন্ন করব।' এ প্রস্তাবে বৃষ্টি রাজি না হওয়ায়
স্বামী শাশুড়ি আয়েশা বেগম ও ভাসুর মজিবুর রহমান
তার ওপর অত্যাচার শুরু করে।এমনকি কয়েক
দিন ধরে চাপ দিচ্ছিল পেটেরসন্তানকে নষ্ট করার।
শুক্রবার ভোরে সেহরি খাওয়ার পর তারা সন্তানকে
নষ্ট করার জন্য ফের চাপ দেয়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার
এক পর্যায়ে তারা তাকে (বৃষ্টি) একটি কক্ষে নিয়ে
বেদম মারধর করেন। এরপরই স্বামী হানিফ কেরোসিন
নিয়ে এসে তার (বৃষ্টি) গায়ে ঢালেন ও শাশুড়ি আগুন
ধরিয়ে দেন।বৃষ্টির চিৎকারে এ সময় আশপাশের
বাসিন্দারা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
ঢামেক হাসপাতালে গতকাল বৃষ্টির চাচা লুৎফর রহমান
জানান,তাদের বাড়ি চান্দুরায়। এসএসসি পাস করার পর
বৃষ্টিকে প্রায় দেড় বছর আগে হানিফের সঙ্গেবিয়ে দেওয়া
হয়। হানিফ বিয়ের আগে নিজেকে একটি বেসরকারি
কোম্পানির ঊর্ধ্বতনকর্মকর্তা দাবি করেছিল। পরে
জানা যায় সে বেকার। তিনি বিয়ের পর থেকেই
টাকার জন্যবৃষ্টিকে মারধর করত।
( ব্লগার কর্তৃক ঈষৎ সংক্ষেপিত )
==========================================================
No comments:
Post a Comment